যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি এখন চার মাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুল্কের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তা চাহিদা কমেছে দেশটিতে। এতে কারখানাগুলোয় নতুন ক্রয়াদেশ কমে মজুদ বাড়তে শুরু করেছে অবিক্রীত পণ্যের। বিশ্লেষকদের মতে, এ শ্লথগতি অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরো কমতে পারে। খবর রয়টার্স।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ভোক্তা জরিপের তথ্যানুযায়ী ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, গাড়ি বা আসবাবের মতো দীর্ঘস্থায়ী পণ্য কেনার উপযোগী আর্থিক অবস্থা নভেম্বরে আগের তুলনায় বেশ কমেছে। ভোক্তারা এখনো উচ্চমূল্য ও আয় কমে যাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত আমদানি শুল্কের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আনা পোশাক, ইলেকট্রনিক পণ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু জিনিস এখন আগের তুলনায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে অনেক পরিবারের মাসিক ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে প্রয়োজন মেটাতে অন্য খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে তাদের। উচ্চ আয়ের মানুষের কেনাকাটায় বড় প্রভাব পড়েনি। তবে সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার পতনের কারণে ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তাদের আস্থা কমছে।
লয়োলা মেরিমাউন্ট ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাং উন সন বলেন, ‘কম আয়ের মানুষ প্রয়োজন ছাড়া নতুন কিছু কিনছেন না। শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তার কারণে উচ্চ আয়ের মানুষের কেনাকাটাও কমে যেতে পারে। অবসরপ্রাপ্তরা সবচেয়ে বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ তাদের আয় নির্দিষ্ট এবং বাজারের ওঠানামা তাদের সঞ্চয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ফ্ল্যাশ ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) নভেম্বরে নেমে এসেছে ৫১ দশমিক ৯-এ। অক্টোবরে সূচকটির মান ছিল ৫২ দশমিক ৫। পিএমআই সূচক মান কোনো খাতে ৫০-এর বেশি হলে তা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বোঝায়। আর ৫০-এর কম হলে তা সংকোচন বোঝায়। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা পিএমআই ৫২ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কারখানাগুলোয় নতুন ক্রয়াদেশের পিএমআই সূচক নভেম্বরে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৩-এ, যা অক্টোবরে ছিল ৫৪। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, অবিক্রীত পণ্যের মজুদ এখন রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের চিফ বিজনেস ইকোনমিস্ট ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, ‘নতুন ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি কমেছে। প্রস্তুত পণ্যের মজুদও রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। চাহিদা না বাড়লে আগামী কয়েক মাসে কারখানার উৎপাদন আরো কমতে পারে। এতে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম নভেম্বরে সামান্য বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের কম্পোজিট পিএমআই ৫৪ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৮-এ। সেবা খাতের পিএমআই গত মাসে ৫৪ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫-এ। খাতটিতে নতুন ক্রয়াদেশের সূচকও আগের মাসের তুলনায় উন্নতি হয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বলছে, সুদহার কমানো নিয়ে নতুন প্রত্যাশা, ৪৩ দিনের শাটডাউন শেষ হওয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যৎ আস্থায় উন্নতি দেখা গেছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ভোক্তা আস্থা সূচক নভেম্বরে ৫০ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১-এ। তবে সূচকটি এখনো তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে নিম্নতম পর্যায়ে অবস্থান করছে। ভোক্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও পণ্য কেনার টেকসই সক্ষমতা সূচক কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ পরিচালক জোয়ান সু বলেন, ‘মাসের শেষে বেশি শেয়ারধারী ভোক্তাদের আস্থা আবার কমেছে। শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পতনের প্রভাবই এর প্রধান কারণ।’